শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ২ মাঘ, ১৪৩২, ২৬ রজব, ১৪৪৭

জয় বাংলা

নাসিরুদ্দিন চৌধুরী

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত গতকাল এক রায়ে বলেছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে জাতীয় স্লোগান নয়। ইতিপূর্বে হাইকোর্ট ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান বলে রায় দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগ সেই রায়কে বাতিল করে উক্ত রায় প্রদান করে।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান থেকেই বাংলাদেশের জন্ম। আদালত তার জন্মদাতাকেই অস্বীকার করল। কিন্তু জাতীয় স্লোগান না হলেও মানুষের হৃদয় থেকে তো ‘জয় বাংলা’র স্থান মুছে ফেলা যাবে না। জাতীয় স্লোগান মানে সরকারি অনুষ্ঠানে এ স্লোগান দেওয়া হবে না। কিন্তু বেসরকারি অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে অসুবিধা কোথায়? আর এ স্লোগান তো প্রত্যেক বাঙালি বুকে স্থান নিয়ে বসে আছে। তাদের হৃদয়ে যার অধিষ্ঠান, তাকে আদালত কিভাবে উচ্ছেদ করবে?
‘জয় বাংলা’ স্লোগান সবাই শুনেছেন। কিন্তু এ স্লোগান কখন কিভাবে উদ্ভব হয়েছিল এবং আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল সেটা হয় তো সবাই জানেন না। আমি এখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ইতিহাস তুলে ধরছি ু
পাকিস্তানের কুখ্যাত একনায়ক আইয়ুব খানের পতনের পর ১৯৭০ এর ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস উপলক্ষে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ৩ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় । প্রথম দিনের কর্মসূচি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর কেন্টিনে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বদলীয় সভা মিছিলে সব সময়ই শ্লোগানের প্রতিযোগিতা হতো। যেমন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের একাংশের শ্লোগান ছিল ‘আমার বাড়ি তোমার বাড়ি নকশালবাড়ি নকশালবাড়ি’। ‘নকশালবাড়ি শিখিয়েছে লড়াই করে বাঁচতে হবে’। এ রকম নানা ধরনের শ্লোগান দেয়া হতো। সর্বদলীয় ছাত্রসভায় এসব শ্লোগানের জবাবেই তৈরি হয়েছিল “আমার বাড়ি তোমার বাড়ি বাংলার প্রতি বাড়ি” ‘শেখ মুজিব শিখিয়েছে লড়াই করে বাঁচতে হবে’। ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ ইত্যাদি শ্লোগান।
১৯৬৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মধুর কেন্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সভা ডাকা হলো । সভা শুরু হলে তৎকালীন মেধাবী ছাত্রনেতা (ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে সিরাজুল আলম খানের গ্রুপের সদস্য) আফতাব আহমদ (ড. আফতাব আহমদুপরবর্তীকালে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে দেশজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন তিনি) প্রথম ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানটি দেন। চিশতি হেলালুর রহমান (মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন) একাই তাঁর প্রত্যুত্তর দেন। পরে এ স্লোগান ছাত্রলীগের কর্মীরা ধরতে শুরু করে। তখন ছাত্রলীগের কর্মীরা একজন আরেকজনকে সামরিক কায়দায় এ স্লোগান দিয়ে সম্বোধন করত এবং স্লোগান উচ্চারণ করে করমর্দন করতো। এ শ্লোগানই সময়ের প্রেক্ষাপটে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ স্লোগান প্রথম উচ্চারণ করেন ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ৭ জুন রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসভায়। তিনি ‘জয় বেলুচিস্তান’, ‘জয় সিন্ধু’ এর সাথে ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান উচ্চারণ করেন । আর ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেরা এর বিপরীতে বের করে ‘জয় সর্বহারা’ শ্লোগানটি যা কোনোদিন জাতীয় শ্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি ছিল ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খান, কাজী আরেফ আহমদ ও আবদুর রাজ্জাক কর্তৃক গঠিত গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’র সৃষ্ট। ‘নিউক্লিয়াসে’রই সদস্য তৎকালীন মেধাবী ছাত্রনেতা আ ফ ম মাহবুবুল হককে এ স্লোগানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তিনি ‘নিউক্লিয়াসে’র সদস্যদের নিয়ে এই কাজটি করতেন। অল্প সময়ের মধ্যে এই স্লোগানটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। স্লোগানটি হয়ে ওঠে বাঙালির প্রাণের স্লোগান, মুক্তির স্লোগান, মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। উল্লেখ্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ‘নিউক্লিয়াস’ সদস্য আবদুল্লাহ সানির রুমে বসে অনেক আলাপ আলোচনার পর জাতীয় স্লোগান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়-‘জয় বাংলা’ স্লোগান। রণাঙ্গনে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার বুকে পোতা থাকত ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। বাংকারে এবং শত্রু হননের অগ্রাভিযানে মুক্তিযোদ্ধাদের বুকে এ স্লোগানই প্রেরণা যোগাত।
‘জয় বাংলা’ স্লোগান উৎপত্তি এই ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারলাম এটি কোন দলের স্লোগান নয়, আওয়ামী লীগের স্লোগান তো নয়ই। শেখ হাসিনার সরকার ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে বলেই তাকে জাতীয় স্লোগান থেকে বাদ দিতে হবে এটা কোন যুক্তির কথা হতে পারে না। শেখ হাসিনার সব কিছু খারাপ, এও তো সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

৭০-এ রাউজানে অধ্যাপক খালেদের বিজয়ের পেছনে মুখ্য ভূমিকা ছিলো ফজলুল হকের

সত্তরের নির্বাচনে ফজলুল কাদের চৌধুরীর পরাজয় এখন ইতিহাস। কিন্তু এই ইতিহাসের পেছনে আরো একটি ইতিহাস রয়েছে। তবে কোন ইতিহাসে সেটা লেখা নেই। ৭০-এর নির্বাচনের রায়ে

বিস্তারিত »

প্রদর্শিত হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জব্দ আলামত

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার জব্দ করা বিভিন্ন আলামত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ গ্যালারিতে এক মাসের জন্য প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউসনের

বিস্তারিত »

পটিয়ার রাজনীতির বটবৃক্ষ ভূমিসাৎ

শামসুদ্দিন চলে গেছেন। শামসুদ্দিন ছিলেন অবিভক্ত পটিয়া থানার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রাণপুরুষ। তিনি ছিলেন রাজনীতির প্রতীক। শামসুদ্দিন পটিয়ার রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হতো

বিস্তারিত »

 সিলেট সফর থেকেই শুরু হচ্ছে তারেক রহমানের নির্বাচনি

গত  শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া বিএনপির সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা

বিস্তারিত »

স্বাধীনাত সংগ্রামের নেপথ্য নায়ক এ কে ফজলুল হক

সাতচল্লিশে দেশভাগের পর ঢাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ ঘটেছিলো, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেদের বুকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দানা বেঁধে উঠেছিলো।

বিস্তারিত »

তারেক রহমান শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন  সাংবাদিকদের সঙ্গে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী শনিবার দেশের জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর বনানীতে

বিস্তারিত »

চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে তারেক জিয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানী গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ

বিস্তারিত »

খালেদা জিয়া পোশাকশিল্পের সত্যিকারের বন্ধু ছিলেন: কাজী মনিরুজ্জামান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের পোশাকশিল্পের সত্যিকারের বন্ধু ছিলেন। সুযোগ-সুবিধা ও নগদ প্রণোদনা দিয়ে এ খাতের পথচলা সহজ করে দিয়েছিলেন। তার সময়েই দেশের পোশাক রপ্তানি

বিস্তারিত »

 ঐক্যের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ তারেক রহমানের সঙ্গে 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নাগরিক ঐক্যের নেতারা। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বিস্তারিত »