গৌড়বঙ্গের অসাধারণ কৃতীপুরুষ, জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর কৃতিত্বপূর্ণ জীবনে এটি আরেকটি অসামান্য অর্জন। ইস্পাত শিল্পে জিপিএইচ একটি বিস্ময়, আর যাঁর হাত ধরে জিপিএইচ অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির একেকটি সোপান অতিক্রম করে ক্রমশ উর্ধারোহনের পথে ক্রমোন্নতির রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে, তিনি হচ্ছেন জিপিএইচের প্রাণপুরুষ জনাব জাহাঙ্গীর আলম। জিপিএইচের মসৃণ উত্থানের পেছনে তাঁরই সৃজনশীল মস্তিষ্ক ক্রিয়াশীল। তিনি ইস্পাত শিল্পে সর্বাধুনিক কোয়ান্টাম আর্ক ফার্নেস প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ভূমিকম্প সহনশীল রড তৈরি করে রীতিমত এক বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। তাঁকে ইতিমধ্যেই ইস্পাত শিল্পের জগতে একটি বিস্ময়কর প্রতিভা হিসেবে মানা হচ্ছে।
জনাব জাহাঙ্গীর আলমের জন্ম মুন্সিগঞ্জে, ঐতিহাসিক বিক্রমপুরেরই অধুনা প্রশাসনিক কেন্দ্র। সেই বিক্রমপুর যেখানে জন্মেছেন অতীশ দীপঙ্করের মতো মহামানব, যেখানে কিংবদন্তীর বজ্রযোগিনী গ্রামের অবস্থান, যেখানে বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের একজন মহিলা বুদ্ধ ও তান্ত্রিক দেবী, যিনি জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং আধ্যাত্মিক রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে প্রসিদ্ধ; তিনি ‘ডাকিনী’ নামেও পরিচিত, যা দ্রুত জ্ঞানার্জন ও বাধামুক্তির পথ দেখায় এবং তান্ত্রিক সাধকদের কাছে ‘ সর্ববুদ্ধাকিণী’ বা ‘মহাযান’ নামে পূজিত হন, যা অতীশ দীপঙ্কর-এর মতো সিদ্ধাচার্যদের অনুশীলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। মুঘল আমলে বিক্রমপুর সোনারগাঁও সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরগনা ছিল। সুলতানী আমলে সোনারগাঁও বাংলার রাজধানী ছিল। বারভূঁইয়াদের অন্যতম শক্তিশালী নেতা ঈসা খাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁও (ঝড়হধৎমধড়হ)। তিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় সোনারগাঁওকে তাঁর শাসনের কেন্দ্রবিন্দু এবং রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, পরে তাঁর পুত্র মুসা খাঁও সোনারগাঁওকে রাজধানী রেখেছিলেন।
বাঙলায় আগ্রাসী মুঘল আক্রমণ প্রতিহত করে স্বাধীন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাকারী শাসকদের মধ্যে বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম হলেন মহারাজ কেদারনাথ দেবরায় (১৫৬১-১৬০৩ খ্রি:) । সাম্রাজ্যবাদী মুঘল আক্রমণ প্রতিরোধ এবং মুঘল-রাজপুত জোট সৈন্য শক্তিকে চারটি বিধ্বংসী যুদ্ধে পরাজিত করার জন্য তিনি বিখ্যাত। কেদার রায় ছিলেন বিক্রমপুরের মহারাজা এবং শ্রীপুরে ছিল তাঁর জমিদারির কেন্দ্র।
জিপিএইচের জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে আলোচনায় ঐতিহাসিক বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জ ও সোনারগাঁওয়ের কথা মনে পড়ে গেল। বিক্রমপুর বা মুন্সিগঞ্জ একদিকে জ্ঞান ও অন্যদিকে সাহসের প্রতীক। জনাব জাহাঙ্গীর আলম এই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার লাভ করেছেন এবং তাঁর শিল্প ভাবনায় একের পর এক তারই প্রতিফলন ঘটিয়ে চলেছেন।
মুন্সিগঞ্জে জন্ম হলেও জনাব জাহাঙ্গীর আলমের সেকেন্ড হোম চট্টগ্রাম। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজে লেখাপড়া করেছেন এবং যখন শিল্প স্থাপন করতে আসলেন তখন চট্টগ্রামকেই তাঁর শিল্পের আঁতুরঘর হিসেবে বেছে নিলেন।








