মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ ভিসা বন্ড তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট গত মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে।
এতে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় আছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, ও নেপাল, উগান্ডা।
এর আগে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।
নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়ার সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে বাধ্য হতে পারেন। আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বন্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
এই বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান (ওভারস্টে) রোধ করাই এই পাইলট কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তবে বন্ডটি ফেরতযোগ্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে বা ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণ না করলে জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও কঠোর হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।







