দুর্বৃত্তরা এসেছিল বাইকে করে, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
রাউজানে জানে আলম সিকদার (৪৮) নামে এক যুবদল নেতা নিজের বাড়ির কাছেই দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাত পৌনে ৯টায় পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জায়গাটি পূর্বগুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে মাত্র আধ কিলোমিটার দূরে। জানে আলম বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসাবে পরিচিত। তিনি রাউজান উপাজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ–সভাপতি সাবের সুলতান কাজল।
জানা গেছে, মোটরসাইকেল আরোহী কয়েকজন দুর্বৃত্ত স্থানীয় সিকদার পাড়ায় প্রবেশ করে জানে আলম সিকদারকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে নগরীর এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জানে আলম রাউজান উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিকদার বাড়ির হামদু মিয়া প্রকাশ বাচার ছেলে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার কিছুসময় আগে জানে আলম কাছের অলিমিয়াহাট বাজারে ছিলেন। বাজার থেকে বাড়িতে প্রবেশের সময় তাকে অনুসরণ করা দুর্বৃত্তরা তার উপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
রাউজান উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন বলেন, জানে আলম শিকদারকে সন্ত্রাসীরা গুলি করার পর উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। এদিকে তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়কের মুন্সিরঘাটা ও জলিল নগর এলাকায় টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এর পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ–সভাপতি সাবের সুলতান কাজলের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে সাবের সুলতান কাজল আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। রাত ১১টায় অবরোধ তুলে নিয়ে গোলাম আকবর খন্দকারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তিনি বলেন গোলাম আকবর খন্দকারকে রাউজান আসতে দেওয়া হবে না। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ বিকাল ৩টায় প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দিপ্তেশ দাশ বলেন, আমরা ঘটনার তদন্তে আছি। ঘাতক মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো।
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে এই পর্যন্ত ১৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব খুনের বেশির ভাগের নেপথ্যের কারণ ছিল চাঁদাবাজি, মাটি ও বালুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।







