আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের পাঁচটি আসনের ১২জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে, তাদের মধ্যে এমন কয়েকজন খুব উল্লেখযোগ্য প্রার্থী ছিলেন, যাদেরকে নিয়ে তাদের নির্বাচনী এলাকায় বহুদিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনা, আলাপ-আলোচনা চলছিলো। এরা হচ্ছেন, হাটহাজারী আসনে জাতীয় পার্টির (একাংশ) প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। আরো ৯জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, যাদের মধ্যে পটিয়া আসনে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলহাজ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ১৯৮৪ সাল থেকে ৭ বার হাটহাজারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁকে নির্বাচনী রাজনীতিতে সব সময় একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এসএম ফজলুল হক একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং শিল্পপতি। তিনি চট্টগ্রাম থেকে প্রথম এবং শেষবারের মত বিজিএমইএ’র সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি হাটহাজারী থানা বিএলএফ-এর কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতা পর চাকসু’র ভিপি নির্বাচিত হয়ে তিনি যুব ও যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তিনি প্রথমদিকে কয়েক বছর জাসদ করেন এবং পরে ৭৫-এর যখন দেশে রাজনীতি পট পরিবর্তন হয়, সেনা কর্মকর্তা জিয়া রাজনীতিতে এসে বিএনপি গঠন করেন, তখন এসএম ফজলুল হক বিএনপিতে যোগদান করেন। সেই থেকে তিনি বিএনপিই করে আসছেন এবং বারবার হাটহাজারী আসন থেকে দলের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন।
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা হাটহাজারীর সাবেক এমপি সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। তিনিও তাঁর পিতার মৃত্যুর পর বিএনপি মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেননি। সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম তাঁর মেয়েটিকে ব্যারিস্টারি পড়িয়ে রাজনীতিতে তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিনী রাজনীতিতে তাঁর সাফল্য কন্যার ক্ষেত্রে ব্যর্থতায় পর্যায়বসিত হয়।
পটিয়ার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীও এক সময় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, পরে বিভিন্ন সময়ে তিনিও মনোনয়ন চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হন।
রিটার্নিং অফিসার হয়তো কোন ত্রুটি পেয়ে মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন, কিন্তু বাতিলের যে ধরণ তাতে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি’র প্রার্থীর জন্য যারা হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারতেন, তাদের মনোয়ন পত্র বাতিল হয়ে যাওয়ার পর মাঠে আর এমন কোন প্রার্থী রইলেন না যারা বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে জোর প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারতেন। হয়তো যুক্তি সঙ্গত ও আইনানুগভাবেই বাতিলের ভাবেই মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এর ফলে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে মনে হতে পারে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ের পথ নিষ্কষ্টক করার জন্যই উক্ত মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।
বগুড়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না, যিনি ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের জন্য অনেক কাজ করেছেন, তার মনোনয়ন পত্রও বাতিল করা দেওয়া হয়েছে। তাহলে কি এমন সংসদ গঠনের নীল নকশা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে, যাতে সংসদে কোন বিরোধী কণ্ঠ না থাকে।








