বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৩ পৌষ, ১৪৩২, ১৭ রজব, ১৪৪৭

বেগম জিয়ার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন দেশ

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজায় জনতার ঢল

মুক্তি৭১ ডেস্ক

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পতœী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশব্যাপী শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁর মৃত্যুর পর সরকারিভাবে ঘোষিত ৩দিন ব্যাপী শোক গতকাল শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও শোকের আবহ রয়ে গেছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, বেগম জিয়া অসাধারণ জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন এবং দেশবাসির অন্তরে তিনি স্থান করে নিয়েছিলেন।
৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় চিকিৎসকরা তাঁর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেন। এরপর দেশব্যাপী শোকের মাতম শুরু হয়। দেশের প্রধান উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও সরকারের পক্ষ থেকে বেগম জিয়া মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি ও বাণী প্রদান করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জানাজায় এত বেশি মানুষের উপস্থিতি ঘটেছিলো যে মনে হচ্ছিলো যেন গোটা ঢাকা শহর ভেঙ্গে পড়েছিলো তাঁর জানাজায়। পরে তাঁকে তাঁর স্বামী মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন ও দলনেত্রী ছিলেন।
১৯৭৭ সালে তাঁর স্বামী রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি হিসেবে জাতীয়ভাবে পরিচিত হন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যার শিকার হলে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যোগ দেন এবং বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। আশির দশকে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি সমমনা ৭টি দলকে নিয়ে একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করেন এবং অন্যান্য জোট ও দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদান করেন। এ আন্দোলনে তিনি কখনও আপস করেননি, সেজন্য তাঁকে আপসহীন নেত্রী বলা হতো। ১৯৯০ সালে এরশাদের স্বৈশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে অসামান্য অবদান রাখেন। ১৯৯১ সালে দেশে প্রথমবারের মত তত্ত¡াবধাক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি উক্ত নির্বাচনে জয়ী হয় এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯৬-এর স্বল্পস্থায়ী বিতর্কিত সরকারেও তিনি দায়িত্বপালন করেন, যেখানে অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনটি বর্জন করেছিল। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলনে তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। ২০০১ সালে তার দল পুনরায় ক্ষমতায় আসে এবং তিনি ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মেয়াদকালে দুর্নীতির ধারণা সূচক অনুসারে (২০০১-২০০৫) বাংলাদেশ টানা পাঁচ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ছিল। ফোর্বস সাময়িকীর বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাবান নারী নেতৃত্বের তালিকায় ২০০৪ সালে খালেদা ১৪তম হন।
২০০৬ সালে তাঁর সরকারের নির্ধারিত শাসনকাল শেষ হওয়ার পর, ২০০৭ সালে নির্ধারিত নির্বাচন রাজনৈতিক সহিংসতা ও অন্তর্দ্ব›েদ্বর কারণে বিলম্বিত হলে, সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। সেই সরকারের সময়কালে, খালেদা জিয়া তার দুই সন্তান-সহ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন। ২০১৮ সালে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা এবং ২০১৮ সালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জিয়াকে মোট ১৭ বছরের কারাদÐ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে তাঁকে কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২০২০ সালের মার্চে মানবিক কারণে তাঁকে ছয় মাসের জন্য গৃহবন্দি করে মুক্তি দেয় শেখ হাসিনা সরকার এবং রাজনীতিতে কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালে এক আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দÐ মওকুফ করে তাঁকে মুক্তি দেন। ২৭ নভেম্বর ২০২৪, খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পান। কয়েক বছর ধরে নানা জটিল রোগে দীর্ঘ অসুস্থতার পর, খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জানাজা, শেষকৃত্য ও দাফন সম্পন্ন হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম নাম খালেদা খানম পুতুল। ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্টে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির জলপাইগুড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ভাইয়েরা সবার ছোট। তাঁর পিতামহ হাজী সালামত আলী, মাতামহ জলপাইগুড়ির তোয়াবুর রহমান। তাঁর বাবা ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। পরবর্তীকালে তারা চলে আসেন দিনাজপুরের মুদিপাড়ায়। আদি পৈতৃকনিবাস অধুনা বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি। বাবা জনাব ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ইস্কান্দার মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। বোনের বাসায় থেকে মেট্রিক পাস করেন ও পরে চা ব্যবসায়ে জড়িত হন। ১৯৩৭ সালে জলপাইগুড়িতে বিয়ে করেন। জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বসবাস করেন এবং ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একান্তভাবে একজন গৃহিণী। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেই থাকতেন। খালেদা পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে ভর্তি হন । এরপর তিনি দিনাজপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন, একই বছর তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি খালেদা জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাসের পূর্বে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন।
তাঁর স্বামী বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমানের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। জিয়া তখন ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডি এফ আই এর কর্মকর্তা রূপে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। তাঁর এক ভাই মেজর (অবঃ) সাঈদ এস্কান্দার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ফেনী-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড় তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাঁর কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
১৯৬৫ সালে খালেদা জিয়া স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমানে পাকিস্তান) যান। ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে স্বামীর সাথে ছিলেন। এরপর ঢাকায় চলে আসেন। কিছুদিন জয়দেবপুর থাকার পর চট্টগ্রামে স্বামীর কর্মক্ষেত্র স্থানান্তরিত হলে তাঁর সঙ্গে সেখানে এবং চট্টগ্রামের ষোলশহর অঞ্চলে বসবাস করেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভকালে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি সন্ধ্যার দিকে লঞ্চে করে নারায়ণগঞ্জ এসে পৌঁছান। তার সঙ্গে সেই সময় তার দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো এবং কর্নেল মাহফুজের স্ত্রী ছিল। সেখান থেকে তাঁর বড় বোন খুরশীদ জাহান এবং বোনের স্বামী মোজাম্মেল হক তাদের একটি জিপে করে ঢাকার খিলগাঁওয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। খালেদা জিয়ার আসার এই খবরটি গোয়েন্দা মাধ্যমে ১০ দিনের মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। ২৬ মে তাঁর ভগ্নিপতি মোজাম্মেল হক জানতে পারেন যে পাকিস্তানি সেনারা খালেদা জিয়ার অবস্থান সম্পর্কে জেনে গেছে। এর পর থেকেই খালেদা জিয়ার আত্মগোপন শুরু হয়। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে ঘুরতে হয় তাকে। অনেকেই নিপীড়নের ভয়ে তাকে আশ্রয় দিতে রাজি হননি। ২৮ মে মোজাম্মেল হক খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই ছেলে পিনু ও কোকোকে অন্য একটি জায়গায় সরিয়ে নেন, পরবর্তীকালে ৩ জুন আবার অন্য জায়গায় সরিয়ে নেন। এরপর এক অজানা ঠিকানায় খালেদা জিয়া ভূতাত্তি¡ক জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস কে আবদুল্লাহর সিদ্ধেশ্বরীর বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। সেখানেই তিনি ২ জুলাই পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকেন।
গ্রেপ্তারের পর খালেদা জিয়া ও তার দুই সন্তানকে পুরোনো সংসদ ভবনের একটি কক্ষে রাখা হয়। এরপর সেখান থেকে তাদের ঢাকা সেনানিবাসের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি সেখানে আটক ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর সকালে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। ঐদিন সকালে তাকে একটি জিপে করে পুরানা পল্টনে তার চাচাশ্বশুরের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট জিয়াউর রহমান তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি চিঠি লিখেন। সে সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল জামশেদ পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জিএইচকিউ ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া তার অধীনেই আটক ছিলেন। জিয়াউর রহমান যখন পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাব রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন, তখন জামশেদ ছিলেন তার কমান্ডার। জিয়ার লেখা চিঠিটি ‘অধিকৃত’ এলাকা থেকে শাফায়াত জামিল পোস্ট করেন এবং সেটি মেজর জেনারেল জামশেদের কাছে পৌঁছেছিল।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার পর খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলেকে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেটের শমশেরনগরে নিয়ে যাওয়া হয়। জিয়াউর রহমানের অনুরোধে জেনারেল অরোরা এ ব্যবস্থা করেন। শমশেরনগর বিমানবন্দরে মেজর চৌধুরী খালেকুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ তাদের গ্রহণ করেন এবং একটি স্থানীয় রেস্ট হাউসে নিয়ে যান। শমশেরনগরে খুব অল্প সময় অবস্থান করার পর খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কুমিল্লা সেনানিবাসে চলে যান।
১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদের আহŸানে তিনি ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলত বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।
১৯৮৩ সালে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। একই সময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরম্ভ হয়। বেগম জিয়া প্রথমে বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেন। একই সময় তার নেতৃত্বে সাত দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন পনেরো দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচির সূত্রপাত করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাধার সৃষ্টি হয়। ১৫ দল ভেঙে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়। এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট আন্দোলন চালায় এবং নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া “এরশাদ হটাও” শীর্ষক এক দফার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। এর ফলে এরশাদ সংসদ ভেঙে দেন। তারপর পুনরায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের উপক্রম হয়। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর অবিরাম, নিরলস ও আপোসহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট পাঁচটি আসনে অংশ নিয়ে পাঁচটিতেই জয়লাভ করেন।
১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তার সরকার দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠিত করে। ২ এপ্রিল তিনি সংসদে সরকারের পক্ষে এই বিল উত্থাপন করেন। একই দিন তিনি তত্ত¡াবধায়ক সরকার প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ কে স্বপদে ফিরে যাবার ব্যবস্থা করে একাদশ সংশোধনী বিল আনেন। ৬ আগস্ট ১৯৯১ সালের সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে দুটি বিল পাশ হয়।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। যা পরবর্তীকালে ৯৬ এর একদলীয় নির্বাচন হিসেবে গণ্য হয়। সকল বিরোধীদলের আপত্তির পর ও খালেদা জিয়া ও তার দল এই একক নির্বাচন করেন। আওয়ামী লীগ সহ সব বিরোধী দল এই নির্বাচন বয়কট করে। এই সংসদ মাত্র ১৫ দিন স্থায়ী হয়। খালেদা জিয়া এই সংসদের ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রবল গণ আন্দোলন ও বর্হিবিশ্বের চাপে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের বিল পাস হয় এবং খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন।
অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাতীয় পার্টির সাথে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া এই সংসদেও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মেয়াদকালে দুর্নীতির ধারণা সূচক অনুসারে (২০০১-২০০৫) বাংলাদেশ টানা পাঁচ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এসেছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এই সংসদের মেয়াদ শেষ হয়।
১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মোট ১১৬ আসনে জয় লাভ করে, যা সরকার গঠনে যথেষ্ট ছিল না। আওয়ামী লীগ মোট ১৪৭ আসন লাভ করে, তারা জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপি সপ্তম সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের পাঁচ বছর শাসনকালে সংসদে বিরোধী দলনেত্রী ছিলেন।
তিনি ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর ৩ তারিখে দুর্নীতির অভিযোগে পুত্রসহ আটক হন। ২০০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বার তিনি সর্বোচ্চ বিচারালয়ের নির্দেশে মুক্তিলাভ করেন। তত্ত¡াবধায়ক সরকার কর্তৃক বন্দী হবার পর দীর্ঘ এক বছর সাত দিন কারাগারে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে চলতে থাকা কোন অভিযোগেরই উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি এবং চলতে থাকা তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি।
২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত সরকারের সময় এক অনুষ্ঠোনে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার মধ্যে সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে, তত্ত¡াবধায়ক সরকার সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে যেখানে জিয়ার দল আওয়ামী লীগ এবং তার মহাজোটের কাছে হেরে যায় যা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়েছিল। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন, এবং তার দল ২০০৯ সালের প্রথম দিকে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হন।
খালেদা জিয়ার দল একটি নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে পরিচালিত না হওয়া পর্যন্ত ২০১৪ সালের বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার একটি অবস্থান নিয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
৮ ফেব্রæয়ারি ২০১৮ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে তার ৫ বছরের সশ্রম কারাদÐ হয়। এরপরই তাকে বন্দী করে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০২৪ সালে এই মামলাতেও তিনি খালাস পান।
১৩ নভেম্বর ২০১০ বেগম জিয়া তার ২৮ বছরের আবাসস্থল ছেড়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন যে তাকে বলপ্রয়োগে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তবে সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় বাড়ি ত্যাগ করেছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে জিয়াউর রহমানের সাথে শহীদ মইনুল সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়া চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হলে ১২ জুন তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের ওই বাড়িটি খালেদার নামে বরাদ্দ দেন।
২০১২ সালে বেগম খালেদা জিয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর করেন। আগস্টে তিনি রাজ পরিবারের আমন্ত্রণে সৌদি আরবে যান এবং পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। এই সফরে তিনি সৌদি রাজপুত্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের সাথে সাক্ষাত করেন। তাদের বৈঠকে দ্বিদেশীয় সম্পর্ক ও সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রম বাজারের সংকট উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
অক্টোবরে খালেদা জিয়া চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সফর করেন। সফরকালে তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় ও দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা করেন। চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভবিষ্যত একচ্ছত্র নেতা শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও পদ্মা সেতু নির্মাণে বিনিয়োগের ব্যাপারে আলোচনা করেন। বৃহত্তর অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বিষয়াবলিও তাদের আলোচনায় উঠে আসে। শি জিনপিং ছাড়াও খালেদা জিয়া কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রধান ওয়াং চিয়ারুইয়ের সাথে দেখা করেন। উল্লেখ্য এ বছরের মাঝামাঝিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্য মূল অর্থদাতা বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনলে বিশ্ব ব্যাংককে অনুসরণ করে একাধিক দাতা সংস্থা ঋণদান থেকে সরে দাঁড়ায় ও প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
বেগম জিয়ার চীন সফর সম্পন্ন হওয়ার একদিন পর তার রাজনৈতিক দল বিএনপি ঘোষণা দেয় যে চীনা নেতৃবৃন্দ দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে চীন সরকারের বিনিয়োগের বিষয়ে খালেদা জিয়াকে নিশ্চিত করেছেন।
একই মাসে খালেদা জিয়া ভারত সরকারের আমন্ত্রণে ভারত সফরে যান। সফরের শুরুতে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় বিরোধী দলীয় প্রধান ও বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে বৈঠক করেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালমান খুরশিদ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেনন ও পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন । খালেদা জিয়ার ভারত সফরের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল দ্বিদেশীয় সম্পর্ক, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, তিস্তা পানি চুক্তি এবং বৃহত্তর অঞ্চলের ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা।
১৮ মে ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রী হেনরি বেলিংহাম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
খালেদা জিয়া দীর্ঘস্থায়ী কিডনি অবস্থা, পচনশীল যকৃতের রোগ, অস্থির হিমোগেøাবিন, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং অন্যান্য বয়সজনিত জটিলতায় ভুগেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে খালেদা জিয়া করোনা-ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তার বাসা ফিরোজার আরো ৮ জনের করোনা-ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। ২০২২ সালে তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি জিয়াকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে স্থানান্তর করা হয়। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সিধান্ত নেন।
২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাতারের আমীরের পাঠানো বিশেষ এয়ার এম্বুলেন্সে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন এবং ৮ জানুয়ারি লন্ডনে পৌঁছান। ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, খালেদা জিয়াকে ‘খুবই গুরুতর’ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সূত্র : উইকিপিডিয়া

 

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

ছয় কেন্দ্রের ফলাফলে শিবির এগিয়ে : জকসু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছয়টি বিভাগের (কেন্দ্র) চূড়ান্ত ফলাফলে শীর্ষ তিন পদে এগিয়ে রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা।

বিস্তারিত »

অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলি মঙ্গলবার সেনা সদরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে

বিস্তারিত »

 ঐক্যের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ তারেক রহমানের সঙ্গে 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নাগরিক ঐক্যের নেতারা। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বিস্তারিত »

তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা সিলেট নয়, বগুড়া দিয়ে শুরু

দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়ায় যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সেখান থেকেই তিনি তার জীবনের প্রথম নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রম শুরু করতে

বিস্তারিত »

রুমিন ফারহানার : পথসভার মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

সরাইল উপজেলায় অরুয়াইল বাজার এলাকায় নিজ গাড়িতে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা সরাইল উপজেলায় তার

বিস্তারিত »

চট্টগ্রামে ১২ জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের পাঁচটি আসনের ১২জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে, তাদের মধ্যে এমন কয়েকজন খুব

বিস্তারিত »

নিজ হাতে খালেদা জিয়াকে শায়িত করলেন তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে সবার আগে নেমেছেন তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নিজ হাতে মাকে

বিস্তারিত »

জিপিএইচ ইস্পাতের কর্ণধার জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত, থ্রি চিয়ার্স

গৌড়বঙ্গের অসাধারণ কৃতীপুরুষ, জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর কৃতিত্বপূর্ণ জীবনে

বিস্তারিত »

জাতিকে ওয়াদা দিয়েছি একটা সুষ্ঠু-সুন্দর ভোট উপহার দেবো: সিইসি

জাতিকে সুষ্ঠু-সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য একটা নির্বাচন উপহার দেওয়ার ওয়াদা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে সুন্দর ভোট

বিস্তারিত »