শামসুদ্দিন চলে গেছেন। শামসুদ্দিন ছিলেন অবিভক্ত পটিয়া থানার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রাণপুরুষ। তিনি ছিলেন রাজনীতির প্রতীক। শামসুদ্দিন পটিয়ার রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হতো এক ঝলক রাজনীতির বাতাস বয়ে গেল। কোন সভা, সমাবেশ, অনুষ্ঠান, ঘরোয়া আলোচনায় শামসুদ্দিন উপস্থিত হলে মনে হতো এইবার রাজনীতি এসে গেল। এ কথার দ্বারা আমি যেটা বুঝাতে চাচ্ছি, সেটা হলো শামসুদ্দিনের পুরো জীবনটা ছিলো রাজনীতিময় ।
তিনি ছিলেন পটিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, অকুতোভয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, দুরন্ত দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধা ও বিশ শতকের ষাটের দশক থেকে একুশ শতকের দুই দশক পর্যন্ত পটিয়ায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী রাজনীতির অতন্দ্র প্রহরী অক্লান্ত সংগঠক, অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা শামসুদ্দিন আহমদ যখন আর সময়ের সাথে, বয়সের সাথে যুদ্ধ করে কøান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন ক্লান্তিহীন এই রাজনৈতিক নেতা বার্ধক্যজনিত কারণে এবং বিভিন্ন রোগে তাঁর পটিয়া পৌরসভাধীন পৈত্রিক বাসভবনে বিছানা গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও প্রিয় দল আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার দুঃসংবাদ শুনে রোগ শয্যায় শায়িত অসম সাহসী সেনাপতি শামসুদ্দিন আহমদ অসহায় ক্রোধে বিছানা আঁকড়ে ধরে তাঁর আক্রোশ প্রকাশ করেছিলেন; সুস্থ থাকলে তিনি আবার পটিয়া থানার মোড়ে গলা ফাটিয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় আওয়ামী লীগ, জয় শেখ হাসিনা স্লোগান দিয়ে পটিয়ার জনগণকে সচকিত ও সচেতন করে তুলতেন, সময়ের সেই সাহসী মানুষটি অবশেষে চিরবিদায় নিয়েছেন। সেই ১৯৬৩-৬৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে পটিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে মুন্সেফ বাজার পর্যন্ত আরাকান সড়ক যাঁর সদর্প পদচারণায় বার বার কেঁপে কেঁপে উঠত, ’৬৪-তে, ’৬৬-তে,’৬৭-’৬৮-’৬৯-এ; শুধু পটিয়া সদর নয়, এক সময় দক্ষিণে দোহাজারী, দক্ষিণ-পশ্চিমে বরমা-বরকল, পশ্চিমে জুলধা, বড় উঠান, লক্ষ্যারচর, শিকলবাহা এবং উত্তর-পশ্চিমে কোলাগাঁও, নলান্দা, হুলাইন, চরকানাই, মিলিটারির পুল, হাবিলাসদ্বীপ, সেনের হাট, মুকুটনাইট, খরনদ্বীপ, গৈড়লা, ধলঘাট, কেলিশহর পর্যন্ত ছাত্র ও জনসাধারণকে ঘুমভাঙানিয়া জাগরণের গান শুনিয়ে শুনিয়ে পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত ঘর্মাক্ত কলেবর যে মূর্তিটিকে অবিরাম ছুটোছুটি করতে দেখা যেত, তিনি যে শামসুদ্দিন সে কথা কাউকে সে আমলে বুঝিয়ে বলতে হতো না।
আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফেসবুকে আমাদের নেতা শামসুদ্দিন আহমদের চির শয্যা গ্রহণের সংবাদ শুনে এবং তাঁর গুণমুগ্ধ কনিষ্ঠ সহকর্মী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরীর পোষ্টটি পড়ে আমিও আবেগ প্রবণ হয়ে গেলাম। কারণ তাঁর মত শামসুদ্দিন ভাই আমারও নেতা ছিলেন, অবিলম্বে আমিও তাঁর সম্পর্কে কিছু লিখতে বসে গেলাম এবং যে লেখাটি মুখে মুখে একজন কম্পিউটার অপারেটরকে ডিক্টেশন দিয়ে লিখতে সক্ষম হলাম, তার শিরোনাম কি দেওয়া যায় চিন্তা করতে করতে আমি ‘রাজনীতির বিদায়’ এই শিরোনামটি চয়ন করলাম। আমার মনে হল অন্য কোন শিরোনাম দিয়ে শামসুদ্দিন ভাইকে ব্যাখ্যা করা যায় না। পটিয়ায় ’৪৭-এর দেশভাগের পর থেকে যেসব রাজনৈতিক নেতার আবির্ভাব আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তাঁদের মধ্যে ব্রিটিশ আমলের যাত্রা মোহন সেন, দেশপ্রিয় জে এম সেনগুপ্ত, নেলী সেনগুপ্তা, মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, পূর্ণেন্দু দস্তিদার, সুখেন্দু দস্তিদার, শরদিন্দু দস্তিদার, পূর্ণেন্দু কানুনগো, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল মাসুদ চৌধুরী, চৌধুরী হারুনুর রশীদ, এ কে এম আবদুল মান্নান, মিঞা আবু মোহাম্মদ ফারুকী, শ্রমিক নেতা উজিরপুরের এম এ মালেক, কৃষক নেতা ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সাপ্তাহিক লাল পতাকা সম্পাদক ও শামসুদ্দিন আহমদের বেয়াই আলমদারপাড়ার বদিউল আলম চৌধুরী, শহীদ মুরিদুল আলম, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, এ এন এম নূর-উন-নবী, এস এম ইউসুফ, চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম খালেদ প্রমুখ তাঁর অগ্রবর্তী নেতা। তাঁদের পরে শামসুদ্দিন আহমদই একমাত্র রাজনীতিবিদ যিনি জীবনে রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই করেননি। অর্থাৎ তিনি রাজনীতির ছাঁচে ঢালাই করা একজন মানুষ। পায়ের নখ থেকে অর্থাৎ চুল পর্যন্ত আগাপাশতলা রাজনৈতিক চরিত্র।
তাঁর পরে পটিয়ায় আরও অনেক ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক নেতার জন্ম হয়েছে, কিন্তু শামসুদ্দিন আহমদের মত গোটা জীবন রাজনীতি নিয়ে কাউকে মাতামাতি করতে দেখিনি। মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, জালাল উদ্দিন আহমদ (তিনি সাংবাদিক হিসেবেও প্রসিদ্ধ ছিলেন), মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (আজিমপুরের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রয়াত), শামসুল আলম চৌধুরী (গোলাম রহমান সওদাগরের পুত্র, সম্প্রতি প্রয়াত), অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম হিরু, মাহবুবুল আলম তসলিম, সেলিম রাহী, চৌধুরী মাহবুবুর রহমান, আইয়ুব বাবুল – শামসুদ্দিন আহমদের পরে উপর্যুক্ত নেতৃবৃন্দকে পটিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করতে দেখা যায়। কার কালাম নামে একজন ছিলেন, কিন্তু তিনি ছাত্র রাজনীতির ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আওয়ামী লীগে আসেননি। রশিদাবাদের এম এ জাফর, খরনার এ কে এম আবদুল মতিন চৌধুরী ও নুরুল আবছার চৌধুরীর নাম এখানে দিলাম না, কারণ তাঁরা যদিও রাজনীতি পটিয়াতেই করতেন, তবু তারা পটিয়া সদরের নেতা ছিলেন না। উপর্যুক্ত তিনজনের নাম শামসুদ্দিন ভাইয়ের জীবনের সঙ্গে অন্য কারণে জড়িয়ে আছে, সেটা হল ’৬৯-এ পটিয়া কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানানোর কারণে শামসুদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে তাঁদেরকেও পটিয়া কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে অবশ্য ’৭০-এর নির্বাচনের পূর্বে বঙ্গবন্ধু পটিয়া কলেজে জনসভায় অধ্যক্ষকে ছাত্রদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য আলটিমেটাম দিলে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
শামসুদ্দিন ভাইয়ের চেয়ে বয়সে সামান্য বড় ছিলেন এস এম ইউসুফ এবং চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম খালেদ, সে কারণে রাজনীতিতেও তাঁরা জ্যেষ্ঠ ছিলেন। চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম খালেদ ‘মোচ সিরাজ’ নামে পরিচিত ছিলেন, আমি তাঁকে পটিয়ায় ছাত্রলীগের রাজনীতির পিতা বলতে চাই। শামসুদ্দিন ভাইও এক আলাপে আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন এবং ’৬২-র ছাত্র আন্দোলনে রাহাত আলী স্কুলের ছাত্র থাকাকালে মোচ সিরাজ এসে তাঁদেরকে ক্লাস থেকে বের করে পটিয়ার রাস্তায় মিছিল করেছিলেন। শহরে রাজনীতি না করার কারণে তিনি জেলার নেতা হতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধ থেকে তিনি নিষ্প্রভ হয়ে যান এবং স্বাধীনতার পর তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতার আর কোন বিশেষ সংবাদ পাওয়া যায় না। তবে মোচ সিরাজ না হলে পটিয়ায় ছাত্র ইউনিয়নের আধিপত্যের অবসান ঘটতে আরও বিলম্ব হত। গৈড়লার অনিল লালা এবং পাঁচরিয়ার মুক্তিমান বড়ুয়া আরও অন্তত দু’তিন বছর পটিয়ায় ছাত্র ইউনিয়নের পতাকা উড্ডীন রাখতেন (সাহিত্য বিশাররে বংশের আফসার সাহেব এবং আনোয়ার উদ্দিন সাহেব (পরীর দীঘির কাছাকাছি তাঁর বাাড়ি, তিনি ভাসানী ন্যাপ করলেও পটিয়ার ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতেন)-এই দু’জনও পটিয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন, কিন্তু তাঁরা শামসুদ্দিন ভাইয়ের সিনিয়র ছিলেন কিনা আমি বলতে পারব না। অনুরূপভাবে উজিরপুরের নুরু ভাই (বাইট্টা নুরু হিসেবে পরিচিত) কোন সময়ে পটিয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন আমি বলতে পারব না। অবশ্য পটিয়ার মনসা নিবাসী এস এম ইউসুফ ততদিনে পটিয়ায় ছাত্রলীগের নিশান উড়াতে চলে আসতেন। ’৬৯-এ বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তাঁর এলাকায় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে হতেনই। আমাদের জীবন দিয়ে আমরা এটা বুঝতে পারি। ’৬৫-র দিকে চরকানাই হাইস্কুলে গিয়ে মুক্তিমান বড়ুয়া আমাকে এবং পরবর্তীকালে পশ্চিম পটিয়া আঞ্চলিক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধে পটিয়া থানা মুজিব বাহিনীর প্রথম কমান্ডার নুরুল ইসলামকে ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য করেন। ’৬৬-র দিকে এস এম ইউসুফ আমাদেরকে ছাত্রলীগে নিয়ে যান। অবশ্য তখনও তিনি জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক হননি।
পটিয়ায় শামসুদ্দিন ভাইয়ের সামান্য সিনিয়র কবির ভাই এবং তাঁর সমবয়সী বদি ভাই (বদিউর রহমান মাস্টার), আবু ছিদ্দিক ভাই, আফজল ভাই, মোহাম্মদ আলী ভাই, সৈয়দ ভাই (সৈয়দ আহমদ বি.কম), আহমদ নূর ভাই, সাইফু ভাই -এঁরা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। কিন্তু শামসুদ্দিন ভাইয়ের মত ধারাবাহিকভাবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁরা রাজনীতি করেননি। এই কারণে আমি শামসুদ্দিন ভাইয়ের তিরোধানে পটিয়া থেকে রাজনীতির বিদায় হল বলে আমার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলাম।
শামসুদ্দিন ভাইয়ের রাজনীতির বয়স ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যদি শামসুদ্দিন ভাইয়ের সক্রিয় রাজনীতির সময় ধরি তাহলে দেখা যাচ্ছে তিনি ৬২ বছর ধরে সক্রিয় রাজনীতি করেছেন। পটিয়া সদরের আর কোন ছাত্রনেতা বা আওয়ামী লীগ নেতা এত দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতিতে বিচরণ করেননি। ৬২ বছরের মধ্যে পাকিস্তানি জমানার ৯ বছর আইয়ুব-মোনায়েমের অত্যাচার নির্যাতন, গ্রেপ্তার, লাঠি, গুলির মুখে তাঁকে রাজনীতি করতে হয়েছে। বাংলাদেশ আমলেও ’৭৫-এর পর থেকে ’৯০ পর্যন্ত দু’বার সামরিক শাসন এবং স্বৈরশাসনের লৌহ নিগড়ের মধ্যে তাঁকে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পা চাটেননি, লাইসেন্স পারমিটের জন্য ক্ষমতাসীনদের পেছনে ছুটোছুটি করেননি। স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান ছিলেন, তাঁর পিতা আবদুল মান্নানের বেশ জমিজমা ছিল। সেগুলির ওপর নির্ভর করে শামসুদ্দিন ভাই রাজনীতি করতে কখনো অসুবিধায় পড়েননি।
সামশুদ্দিন আহমদ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১০ মার্চ পটিয়া থানার গোবিন্দরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম আবদুল মন্নান ।
তিনি পটিয়া রাহাত আলী হাইস্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষালাভ করেন। এই স্কুলে অধ্যয়নকালে ৬২ খ্রিস্টাব্দের শিক্ষা আন্দোলন আরম্ভ হয়: ১৭ সেপ্টম্বর রাহাত আলী হাইস্কুলে ধর্মঘট ও পটিয়ায় হরতাল পালিত হয়। এই ধর্মঘটের অন্যতম নেতা ছিলেন সামশুদ্দিন; সেদিনই চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম খালেদের নেতৃত্বে তিনি ছাত্রলীগে যোগদান করেন। হরতালের কিছুদিন পর চট্টগ্রাম শহর থেকে ছাত্রলীগ নেতা এম এ মান্নান ও আবু ছালেহ পটিয়া যান এবং পটিয়া ডাক বাংলো মাঠে কলেজের ছাত্রদের নিয়ে সভা করেন। এম এ মান্নান পটিয়া কলেজ ও ছাত্রলীগের কমিটি করে দেন। ৬৩ খ্রিস্টাব্দে শামসুদ্দিনের এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক ও অন্যান্য কারণে সে বছর তাঁর পরীক্ষা দেয়া হয়নি। তিনি এসএসসি পাস করেন ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে। সামশুদ্দিন ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে এইচএসসি পাস করেন; ডিগ্রিতে ভর্তি হন পটিয়া কলেজেই । চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম খালেদকে কলেজ শাখার সভাপতি ও সামশুদ্দিনকে স্কুল শাখার সভাপতি করা হয়েছিলো। কিন্তু পরীক্ষার পূর্বেই আবার কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করার দায়ে বহি®কৃত হন। একই সঙ্গে চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম খালেদ, শোভনদণ্ডীর এম এ জাফর ও খরনার এ কে এম মতিন চৌধুরীকেও বহিস্কার করা হয়। তখন ১৯৬৯, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আগরতলা মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কক্সবাজারে প্রথম সফরে যান। ফেরার পথে পটিয়া কলেজ মাঠে এক বিরাট জনসভায় তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। জনসভায় ভাষণে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে চার ছাত্রলীগ নেতার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিতে বলেন। সে অনুযায়ী কলেজ কর্তৃপক্ষ বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছিলো; কিন্তু সামশুদ্দিন এর পর আবার জড়িয়ে পড়েন নির্বাচনে এবং নির্বাচন শেষ হতে না হতেই একাত্তরের মার্চে অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য স্বাধীনতার পূর্বে পরীক্ষা দিতে পারেননি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে বিএ পাস করেন।
১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম পটিয়ায় আনুষ্ঠানিক ভাবে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এ সম্মেলনে চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম খালেদ সভাপতি, কবির আহমদ সাধারণ সম্পাদক এবং এবং সামশুদ্দীন আহমদ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে পটিয়া থানা ছাত্রলীগের ২য় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় পটিয়া ক্লাবে। এ সম্মেলনে চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম খালেদ দ্বিতীয় বারে মত সভাপতি এবং সামশুদ্দীন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
৬৬’র ছয় দফা আন্দোলনের সমর্থনে প্রথম হরতাল পালিত হয় ৭ জুন। এ আন্দোলনে পটিয়ায় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সামশুদ্দীন আহমদ ও তাঁর সহযোগিরা ঐ আন্দোলনের সর্বপ্রতম ট্রেন সহ সবধরণের যানবাহান বন্ধ এবং স্কুল-কলেজে ক্লাস বন্ধ করাতে সক্ষম হয়।
৬৯’র গণ আন্দোলনে কেন্দ্রের নির্দেশ মোতাবেক পটিয়ায় প্রত্যেকটা কর্মসূচি যথাযথ ভাবে পালিত হয়। পটিয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা গাড়ি-ঘোড়া, দোকান-পাট, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা-সভাবেশের মাধ্যমে পটিয়াকে তাঁরা উত্তাল করে তোলেন। ৬৯’র হরতালে পুলিশ তৎকালিন সি.ও. অফিসের সম্মুখ থেকে সামশুদ্দীন আহমদে গ্রেফতার করে, এ নিয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা এবং পুলিশের মধ্যে চরম বাক্বিতণ্ডা হয়। পরক্ষণেই তৎকালীন ভাসানী ন্যাপ নেতা আবুল মাসুদ চৌধুরীকেও গ্রেফতার করা হলে মারমুখী জনতা তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
’৭০-এর এপ্রিলে গোস্তগোলায় শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের ডাকে (অন্য দল সহ) হরতাল পালন করতে গিয়ে চট্টগ্রাম দোহাজারী লাইনে ট্রেন বন্ধ করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তৎকালীন সরকার তাঁকে আইন অমান্যকারী ও নির্বানী বিরোধী, একদফার সমর্থনকারী হিসেবে ইয়াহিয়ার সামরিক আইনে মামলা দেয়।
’৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর একই সালের ১৭ ডিসেম্বর তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।
৭১’র ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ কালো রাত পর্যন্ত সারাদেশের ন্যায় পটিয়ায়ও সারা দেশের ন্যায় অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত ছিল। এ সময়ে কেন্দ্রেয় নির্দেশ মোতাবেক পটিয়ার সর্বদলীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম খালেদ চট্টগ্রামে থাকতেন বিধায় শাসমুদ্দীন আহমদকেই সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক করা হয়। ২৩ মার্চ লাহোর প্রস্তাব দিবসে তাঁর নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা-কর্মীরা প্রায় ৪/৫ শ’র মতো বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল সবুজের পতাকা তৈরি করে কলেজ গেইট থেকে ইন্দ্রপোল পর্যন্ত সমস্ত দোকান পাটে এমনকি সমগ্র পটিয়ার স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালতে উত্তোলনের ব্যবস্থা করেন।
সেদিন পটিয়া কলেজ থেকে মিছিল সহকারে গিয়ে তাঁরা থানা কম্পাউন্ডে ঢুকে পড়েন। তখন থানা প্রাঙ্গণে যে আম গাছটি ছিল, সেটিতে বাঁশ দিয়ে লাগনো পাকিস্তানী পতাকা তাঁরা নামিয়ে নিতে চাইলে পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে, কিন্তু ওসি বেরিয়ে এসে তাদের ঝুঝাবার চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে বারণ করেন। ওসির এরূপ নমনীয় মনোভাব দেখে সামশুদ্দীন আহমদ কালবিলম্ব না করে গাছে উঠে পড়েন এবং পাকিস্তানি পতাকাটি নামিয়ে নিজেদের তৈরি পতাকা উঠিয়ে দেন।
মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে পটিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা অতুলনীয় সাহস ও শৌর্য বীর্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন। পটিয়ার ছাত্র যুবকরা দলে দলে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পটিয়ায় ফিরে এসে গেরিলা যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন। পটিয়ায় অবস্থান করেও স্থানীয়ভাবে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক গ্রুপ সংগঠিত হয়ে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও পটিয়ার এম.এন.এ. অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরী এই দলকে পটিয়া খাদ্য অফিস থেকে চাল ও নগদ টাকা সংগ্রহ করে দেন। ৩০ মার্চ তারা নাজিরহাট থেকে রামগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে গিয়ে দেখেন ডিসি রাঙামাটির তৎকালীন ডিসি এইচ টি ইমাম ক্যাম্পের কাজ পরিচালনা করছেন আর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। রামগড় সীমান্তে খালের ওই পাড়ে ভারতের সাবরুম মহকুমা। এপ্রিলের সম্ভবত ১/২ তারিখ রাতের খাবার শেষে বিএসএফের ৩/৪টি ট্রাক আগরতলা রাজ্যের বগাফা বিএসএফ-এর একটি ট্রেনিং ক্যাম্পে তাদেরকে নিয়ে যায়। ওই দলে তারা সম্ভবত ১০২ জন ছিলেন। এতে পটিয়ার ৭০জন থেকে শামসুদ্দিনসহ ৩৫জন বগাফা ক্যাম্পে ট্রেনিংয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
১৭ এপ্রিল এক ভারতীয় সৈনিক সবাইকে ডেকে নিয়ে তার রেডিওতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের খবরে মুজিবনগর সরকার গঠনের খবর শোনান। তারা ১৫ দিন ট্রেনিং নেন। ২৫ এপ্রিল তাদের ট্রেনিং শেষ হয়। ট্রেনিং শেষে ট্রাকে করে তারা পুনরায় সাবরুম এসে পৌঁছেন। সেখান থেকে ফেনী নদী পার হয়ে রামগড় ফিরে আসেন। তারা যখন ফেনী নদী পার হচ্ছিলেন, তখন আরেকটি ব্যাচ ট্রেনিংয়ের জন্য বগাফা যাচ্ছিলো। সে ব্যাচে পটিয়ার হুলাইন ছালেহ-নূর কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী নাসিরুদ্দিন চৌধুরীও (সাংবাদিক এবং এই নিবন্ধের লেখক) ট্রেনিং নিতে যাচ্ছিলেন বগাফায়। শামসুদ্দিনের সঙ্গে প্রথম ব্যাচেও ট্রেনিং নিয়েছিলেন হুলাইন ছালেহ-নূর কলেজের ছাত্রলীগ নেতা আসলাম ও রফিক, হুলাইনের ইউসুফ খান এবং মনসার আবদুস সালাম ও ইউসুফ চৌধুরী (আমেরিকায় বসবাসরত)।
রামগড় ক্যাম্পে ২/৩ দিন বিশ্রাম নিয়ে শামসুদ্দিনের গ্রুপের ৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধা দু’টি টিমে বিভক্ত হয়ে খাগড়াছড়ি হয়ে পটিয়া চলে আসেন। ১ম টিমের নেতৃত্বে ছিলেন নাজিরহাট কলেজের অধ্যাপক শামসুল ইসলাম (তাঁর বাড়ি পটিয়া থানার করণখাইন) ও ২য় টিমের নেতৃত্বে ছিলেন শামসুদ্দিন আহমদ। তাদের ৩৪ জনকে ৩৪টি বিভিন্ন মডেলের রাইফেল, গুলি, ৩৪টি কাফনের কাপড় ও পথ খরচের জন্য কিছু টাকা দেয়া হয়। তারা বোয়ালখালী এসে জানতে পারেন পটিয়া থানার মোড় ও বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা হয়েছে। ওই সময় প্রায় ২০ জনের অধিক নিহত হন। তারা এলাকায় এসে দেখেন পাকিস্তানী পতাকা উড়ছে। ডেঙ্গাপাড়ায় শামসুদ্দিনের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তারা আশ্রয় নেন।
পটিয়ায় গ্রেনেড ফাটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম অপারেশন শুরু করেন শামশুদ্দিন আহমদের গ্রুপ। এপ্রিলের শেষ দিকে মেট্রিক পরীক্ষা শুরু হয়। শামসুদ্দিনের গ্রুপ মুন্সেফ বাজারে একটি বৈঠকে বসে পরীক্ষা পণ্ড করার মাধ্যমে প্রথম অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের জন্য চার জনের একটি গ্রুপ গঠন করা হয়। এই গ্রুপে শামসুদ্দিন ছাড়াও ছিলেন এয়ার ফোর্সের কর্মকর্তা শামসুল আলম (বাহুলী), চৌধুরী মাহবুবুর রহমান ও ডিবির ছেলে জাহাঙ্গীর। শামসুল আলমকে ২/৩টি গ্রেনেড দেওয়া হয়। তারা রাহাত আলী হাইস্কুল গেইটের বিপরীতে রাস্তার ওপাড় থেকে গেটের দিকে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারেন। তীব্র আওয়াজে উপস্থিত সবাই পালিয়ে যায়। এর পরেও উপস্থিত ছাত্রদের নিয়ে কর্তব্যরত পাকিস্তানি কর্মকর্তারা পরীক্ষা গ্রহণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ডিবির ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। শামসুল আলমকে বাড়িতে না পেয়ে তার বড়ভাই মাহবুবুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে স্বাধীন বাংলা বেতারে দেশবাসীর প্রতি ঘোষণা আসে পাকিস্তান সরকারকে ট্যাক্স বয়কট করার। তা সফল করতে শামসুদ্দিনের গ্রুপ গৈড়লার কমিউনিস্ট নেতা পোস্ট মাস্টার আহমদ হোসেনের বাড়িতে বৈঠক করে পটিয়া, আনোয়ারা ও বোয়ালখালী তহসিল অফিস জ্বালিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইদ্রিস (মাহাতা), প্রফেসর শামসুল ইসলাম, একেএম আবদুল মতিন চৌধুরী (খরনা), আনোয়ার উদ্দিন (পটিয়া), অনিল লালা (গৈড়লা), আবছার উদ্দিন, মাহফুজুর রহমান খান (হুলাইন) প্রমুখ। উপস্থিতি কম থাকায় পরের বৈঠকে কেলিশহর ভট্টাচার্য হাট তহসিল অফিসে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামসুদ্দিন, আনোয়ার, আবছার, অনিল লালা দ্বিতীয় অপারেশন সফল করেন। এর ৩/৪ দিন পর তাদের ৭/৮ জনের একটি দল পটিয়া তহসিল অফিস জ্বালিয়ে দেয়। পাঞ্জাবিরা অপারেশন করতো দিনে, আর গেরিলারা করত রাতে। পরবর্তীকালে এয়ার ফোর্সের সার্জেন্ট মহি আলম, ক্যাপ্টেন করিম, মহসিন খানসহ অনেকে এসে যুদ্ধে যোগ দিলে মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রুপ অনেক বড় হয়ে যায়। বরমার শাহজাহান ইসলামাবাদীর (মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর পুত্র) বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধের ঘাঁটি হলে তারা সেখানে চলে যায়। পাক বাহিনীর আগমনের খবর পেয়ে শামসুদ্দিনরা বুধপুরা চলে যান। খবর পেয়ে ক্যাপ্টেন করিমের টিমও তাদের সাথে যোগ দেয়। ২০/২৫ জনের মিলিত বাহিনী নিয়ে তারা জিরি মাদ্রাসা অপারেশন করেন। সেখানে নেজামে ইসলাম পার্টির নেতৃত্বে মুজাহিদ বাহিনী সংগঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বোয়ালখালী বেঙ্গুরা দেলা মিয়ার বাড়িতে ক্যাপ্টেন করিম গ্রুপের সাথে যৌথভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়। ২২ সেপ্টেম্বর সুবেদার মেজর টি.এম. আলী গ্রুপের সাথে যৌথভাবে খরণা স্টেশন রাজাকার ক্যাম্প অপারেশন করা হয়। ওই অপারেশনে ১০/১২ রাজাকার নিহত, ১০/১২টি রাইফেল উদ্ধার ও মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম শহীদ হন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর বাহিনী পটিয়া সদরের বিওসি রোডে রাজাকার অপারেশনে ৩ রাজাকার খতম ও তিনটি রাইফেল উদ্ধার করে। টি.এম আলী গ্রুপের সাথে যৌথভাবে খানমোহনা রাজাকার ক্যাম্প অপারেশনে ৩ রাজাকার নিহত ও ৪টি রাইফেল উদ্ধার হয়।
কেলিশহর ভট্টাচার্য হাটে রাজাকার অপারেশনে গাজী আবদুস ছবুর শহীদ হন। এ সময় জেলা বিএলএফ কমান্ডার এসএম ইউসুফের চিঠি পেয়ে অক্টোবরের ২৫/২৬ তারিখ শামসুদ্দিন আসামের ডিমাগিরি যান।
৫ নভেন্বর পার্বত্য রাঙামাটি সীতান্তের জারইলপাড়া বর্ডার ক্যাম্পে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সাথে যৌথ অপারেশনে কয়েকজন পাঞ্জাবি সৈনিক নিহত, বেশকিছু অস্ত্র উদ্ধার ও মুক্তিবাহিনীর একজন শহীদ হন। পার্বত্য চট্টগ্রামের যক্ষা বাজার এলাকায় মিত্রবাহিনীর সাথে যৌথ অপারেশনে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর অনেক যোদ্ধা শহীদ হন। রাঙামাটির বরকল থানা ও শুভলং বাজারে তাঁর বাহিনী সাফল্যের সাথে অপারেশন সম্পন্ন করে।
কমান্ডার সামশুদ্দিন আহমদ গ্রুপের উল্লেখযোগ্য মুক্তিযোদ্ধারা হলেন : আনোয়ার উদ্দিন আহমদ, আফসার উদ্দিন আহমদ, আবুল বশর, আবুল কালাম, শহীদ গাজী আবদুস ছবুর, মো. ইসহাক (১), মো. ইসহাক (২), আবদুল মান্নান, শহীদ শাহ আলম, চৌধুরী মাহবুবুর রহমান, আহমদ ছফা চৌধুরী, আবু তাহের, আমির আলী, আবদুস সোবহান চৌধুরী, আহমদ নূর, এসএম নুর-উল-আলম, আমির হোসেন, একেএম আবদুল মতিন চৌধুরী, গোলাম কিবরিয়া, আবদুল লতিফ, নুরুল আবসার চৌধুরী, আবু জাফর চৌধুরী, আবুল কাসেম, জাহিদুল হকসহ অনেকে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ গঠিত হলে সামশুদ্দিন প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত উক্ত পদে অধিষ্ঠিত হন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সামশুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়; তিনি ৩ বছর কারাভোগ করেন, জেল থেকে মুক্তি পাবার পর ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং পটিয়া থানা আওয়ামী লীগের প্রথম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৮০ খ্রিস্টাব্দে সম্মেলনে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাকশাল চট্টগ্রাম দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ৮৮ খ্রিস্টাব্দে সভাপতি হন।
সামশুদ্দিন ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে পটিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন; ৯৭ খ্রিস্টাব্দে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলে তিনি আহবায়ক নিযুক্ত হয়ে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত উক্ত দায়িত্ব পালন করেন।






