তুমি হেঁটে গেলে আকাশের পাবন দেবতা
তোমার আঁচলে একমুঠো শান্ত হাওয়া ঢেলে দেয়
তুমি যখোন উদাসীন দুপুরে একা একা অদূরে
বউটুবানীর নরোম শাক তোলো বিলের আইলে
তখোন আকাশে মেঘপররিরা ছায়া দেয় দলবেঁধে।
তুমি যখোন মধুমতীর জলজ পাড়ে দাঁড়াও
ময়ূরপঙ্খি বজরায় পাল ওড়ায় নবীন মাঝিরা-
জোয়ারে ভাসতে থাকে শ্বেত নীল কচুরির ঝাঁক
শুশুকের বাচ্চারা সদলবলে ডুব মারে অহরহ
গাঙচিলেরা ছোঁ মারা ভুলে চিঁচিঁ ডাকে আসমানে।
তুমি যখোন বাইগার বিলে পা ডুবিয়ে শালুক খোঁজো
মৎস্যকন্যারা ঝাঁক বাঁধে গোড়ালির আশে পাশে
তোমার নরোম পায়ের কাদারা রঙিন হয়ে ওঠে
প্রাণভোমরা উঁকিঝুঁকি দেয় বন শেওলার পাশে
তখোন পৃথিবীর সব পাপ ধুয়ে মুছে যায় চরণে।
তুমি যখোন ঘাঘোরে যাও, তখোন শারদীয় পদ্ম ফোটে
দোলপূর্ণিমার পরিরা তোমাকে পাহারা দেয় দিনক্ষণ
সুরভিময় অন্য ফুলেরা লজ্জা পায় জোটবেঁধে
তোমার সমস্ত লাবণ্য নক্ষত্রমন্ডলিতে বিকাশ ঘটায়
আমরা দেখি তোমার অধরা ঠোঁটে নদী বাংলার ঢেউ।